Image Description

আত্মচরিত

৳980
Format Hardcover
Year 2025
Language Bangla
ISBN 9789842005541
Edition First
Pages 410

ভারতবর্ষে রসায়নবিদ্যার চর্চা এবং রাসায়নিক গোষ্ঠী গঠনের ধারাবাহিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের আত্মচরিত গ্রন্থে। এ ছাড়া তাঁর অভিজ্ঞতামূলক সমসাময়িক অর্থনীতি, শিক্ষাপদ্ধতি ও সমাজ-সংস্কারসহ বিবিধ বিষয়ের সমালোচনা এই বইয়ের বিষয়বস্তু। প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেন, 'বাঙালী আজ জীবন-মরণের সন্ধিস্থলে উপস্থিত। একটা সমগ্র জাতি মাত্র কেরানী বা মসিজীবী হইয়া টিকিয়া থাকিতে পারে না; বাঙালি এতদিন সেই ভ্রান্তির বশবর্তী হইয়া আসিয়াছে এবং তাহারই ফলে আজ সে সকল প্রকার জীবনোপায় ও কর্মক্ষেত্র হইতে বিতাড়িত। বৈদেশিকগণের ত কথাই নাই, ভারতের অন্যান্য প্রদেশস্থ লোকের সহিতও জীবনসংগ্রামে আমরা প্রত্যহ হটিয়া যাইতেছি। বাঙালী যে নিজ বাসভূমে পরবাসী হইয়া দাঁড়াইয়াছে, ইহা আর কবির খেদোক্তি নহে, নিদারুণ সত্য। জাতির ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার, তাহা বুঝিতে দূরদৃষ্টির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাই বলিয়া আশা-ভরসার জলাঞ্জলি দিয়া হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিলেও চলিবে না। বৈষ্ণবী মায়া ত্যাগ করিয়া দৃঢ়হস্তে বাঁচবার পথ প্রস্তুত করিয়া লইতে হইবে।' ছোটবেলা থেকেই বাংলার অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। পরবর্তী জীবনে শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার মতো তা তাঁর জীবনে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে। এসব সমস্যার আলোচনা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, কর্মক্ষেত্রে এসবের সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টার ইতিহাস এই আত্মচরিত গ্রন্থ। ভারতবর্ষে বিজ্ঞান চর্চার সূচনালগ্নের ইতিহাসও পাওয়া যাবে এই বইয়ে। “যেসব দেশ কেবলমাত্র কৃষিবৃত্তির উপর নির্ভর করিয়াছে, সেখানেই স্বেচ্ছা-শাসনতন্ত্র এবং বিদেশী শাসনের প্রাধান্য দেখা গিয়াছে। তাহার অধিবাসীরা সাধারণতঃ প্রাচীন প্রথা ও কুসংস্কার, আকড়াইয়া ধরিয়া থাকে এবং তাহাদের দৃষ্টি সঙ্কীর্ণ ও অনুদার হইয়া পড়ে।” প্রযুতচন্দ্র রায়

Acharya Profullachandra Roy / আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় (২ আগস্ট ১৮৬১-১৬ জুন ১৯৪৪) প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ, বিজ্ঞানশিক্ষক, দার্শনিক ও কবি। তিনি বেঙ্গল কেমিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কিউরাস নাইট্রাইটের আবিষ্কারক। এ ছাড়া তিনি ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন। জন্ম অবিভক্ত বাংলার খুলনা জেলার পাইকগাছার রাডুলি গ্রামে। প্রফুল্লচন্দ্র রায় শুধু বিজ্ঞানীই ছিলেন না, ছিলেন একজন শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজ সংস্কারক, বিজ্ঞানশিক্ষক, দার্শনিক, কবি, শিক্ষানুরাগী, ব্যবসায়ী ও বিপ্লবী দেশপ্রেমিক। ১৮৮৯ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। এ ছাড়া লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মহীশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৮৮৫ সালে India Before and After the Sepoy Mutiny এবং ভারত বিষয়ক বিভিন্ন নিবন্ধ লিখে ভারতবর্ষ এবং ইংল্যান্ডে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস, যা ১৯০১ সালে কলকাতার মানিকতলায় ৪৫ একর জমিতে স্থানান্তরিত হয়। তিনি খুলনায় প্রতিষ্ঠা করেন এপিসি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ও এপিসি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (পরবর্তীতে খুলনা টেক্সটাইল মিলস)। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমিদারি সম্পত্তি ও সমুদয় উপার্জিত অর্থ তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, ছাত্রবৃত্তি ও জনহিতকর কাজে দান করে গেছেন। বাগেরহাটের পিসি কলেজ তারই কীর্তি। সাতক্ষীরার চম্পাপুল স্কুলও তাঁর অর্থানুকূল্যে প্রতিষ্ঠিত। খুলনার বিএল কলেজ, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল মেডিকেল কলেজ, বরিশালে অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউশন, যাদবপুর হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালসহ বহু প্রতিষ্ঠানে তিনি আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।