আত্মচরিত
ভারতবর্ষে রসায়নবিদ্যার চর্চা এবং রাসায়নিক গোষ্ঠী গঠনের ধারাবাহিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের আত্মচরিত গ্রন্থে। এ ছাড়া তাঁর অভিজ্ঞতামূলক সমসাময়িক অর্থনীতি, শিক্ষাপদ্ধতি ও সমাজ-সংস্কারসহ বিবিধ বিষয়ের সমালোচনা এই বইয়ের বিষয়বস্তু। প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেন, 'বাঙালী আজ জীবন-মরণের সন্ধিস্থলে উপস্থিত। একটা সমগ্র জাতি মাত্র কেরানী বা মসিজীবী হইয়া টিকিয়া থাকিতে পারে না; বাঙালি এতদিন সেই ভ্রান্তির বশবর্তী হইয়া আসিয়াছে এবং তাহারই ফলে আজ সে সকল প্রকার জীবনোপায় ও কর্মক্ষেত্র হইতে বিতাড়িত। বৈদেশিকগণের ত কথাই নাই, ভারতের অন্যান্য প্রদেশস্থ লোকের সহিতও জীবনসংগ্রামে আমরা প্রত্যহ হটিয়া যাইতেছি। বাঙালী যে নিজ বাসভূমে পরবাসী হইয়া দাঁড়াইয়াছে, ইহা আর কবির খেদোক্তি নহে, নিদারুণ সত্য। জাতির ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার, তাহা বুঝিতে দূরদৃষ্টির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাই বলিয়া আশা-ভরসার জলাঞ্জলি দিয়া হাত গুটাইয়া বসিয়া থাকিলেও চলিবে না। বৈষ্ণবী মায়া ত্যাগ করিয়া দৃঢ়হস্তে বাঁচবার পথ প্রস্তুত করিয়া লইতে হইবে।' ছোটবেলা থেকেই বাংলার অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। পরবর্তী জীবনে শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চার মতো তা তাঁর জীবনে ওতপ্রোতভাবে মিশে গেছে। এসব সমস্যার আলোচনা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, কর্মক্ষেত্রে এসবের সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। সেই চেষ্টার ইতিহাস এই আত্মচরিত গ্রন্থ। ভারতবর্ষে বিজ্ঞান চর্চার সূচনালগ্নের ইতিহাসও পাওয়া যাবে এই বইয়ে। “যেসব দেশ কেবলমাত্র কৃষিবৃত্তির উপর নির্ভর করিয়াছে, সেখানেই স্বেচ্ছা-শাসনতন্ত্র এবং বিদেশী শাসনের প্রাধান্য দেখা গিয়াছে। তাহার অধিবাসীরা সাধারণতঃ প্রাচীন প্রথা ও কুসংস্কার, আকড়াইয়া ধরিয়া থাকে এবং তাহাদের দৃষ্টি সঙ্কীর্ণ ও অনুদার হইয়া পড়ে।” প্রযুতচন্দ্র রায়