Image Description

আমার বাবা রবীন্দ্রনাথ

৳400
Format Paperback
Language Bangla
ISBN 978 984 20 0356-1
Edition 1st
Pages 224

বিখ্যাত বাবাদের নিয়ে সন্তানদের স্মৃতিকথা দুর্লভ নয়। কিন্তু রবীন্দ্রপুত্র রথীন্দ্রনাথ যত দীর্ঘকালব্যাপী পিতাকে কাছ থেকে দেখেছেন, এমনটি আর কোনো সন্তানের ক্ষেত্রে ঘটেনি। প্রায় ৫০ বছর তিনি পিতার সঙ্গেই ছিলেন। সময়ের দাবিতে এ বই কেবল পুত্রের স্মৃতিকথা নয়, বরং খুব কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথের মতো মহীরুহের অবয়ব উন্মোচন। সারাজীবন মৃত্যুর পর মৃত্যুর ঘা সওয়ার পরও কবি কেমন করে স্থির থাকলেন, এত বিপুল রচনা রেখে যেতে পারলেন? তাঁর সাহিত্যভাণ্ডার কি জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন? কোন্ প্রেক্ষাপটে তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো লেখা হয়েছিল? তাঁর নাটক আর কাব্যনাট্যের উৎস কী এবং গোড়ার দিকে সেগুলোর অভিনয় হত কেমন করে? ১৯১২ সালের ইংল্যান্ড সফর কীভাবে বদলে দিয়েছিল কবির জীবন? কী ঘটেছিল সেই সফরে? গীতাঞ্জলির পাণ্ডুলিপি কেমন করে হারিয়ে গিয়েছিল, আবার সেটা পাওয়াইবা গেল কেমন করে? যে রবীন্দ্রনাথ জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর নাইট উপাধি ত্যাগ করেছেন, ১৯০৫ সালে যিনি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরবর্তীতে তাঁর পথ প্রধান রাজনৈতিক স্রোত থেকে পৃথক হয়ে গেল কেন? কেমন ছিল শান্তিনিকেতনের শুরুর দিনগুলো? কারা এর প্রথম দিককার শিক্ষক ছিলেন আর শিক্ষাদান পদ্ধতিই বা কেমন ছিল? কেমন ছিল অবনীন্দ্র আর গগনেন্দ্রের শিল্পী-জীবন। রবীন্দ্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব মিলবে এ স্মৃতিকথায়। মিলবে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিত্ব আর তাঁর কর্মের অন্তরঙ্গ বিশ্লেষণ। রথীন্দ্রনাথের ভাষায় বলতে গেলে এ বই থেকে ‘পাঠক হয়ত আমার বাবার ব্যক্তিত্বের এমন কিছু দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন, তাঁর জীবনীকারগণ যেসকল বিষয়ে আলোকপাত করেননি।’

Rathindranath Tagore / রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২৭শে নভেম্বর ১৮৮৮- ৩রা জুন ১৯৬১): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মৃণালিনী দেবীর দ্বিতীয় সন্তান, জ্যেষ্ঠ পুত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯০৯ সালে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক। সেখানকার বিদেশি ছাত্রদের নিয়ে গঠিত কসমোপলিটান ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। দেশে ফিরে শিলাইদহে উন্নত পদ্ধতির কৃষি খামার গড়ার চেষ্টা করেন, পরে স্থায়ীভাবে শান্তিনিকেতনের কাজে আত্মনিয়োগ। আধুনিক কৃষিবিদ্যা, প্রকৃতিবিদ্যা আর উদ্যান-স্থাপত্যবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ। প্রাণতত্ত্ব আর অভিব্যক্তি নামের বই লিখেছেন, দুই খণ্ডে অনুবাদ করেছেন অশ^ঘোষের বুদ্ধচরিত। হাতের কাজে ছিলেন চমৎকারÑ কাঠের আর চামড়ার কাজ জানতেন, পারতেন এস্রাজ বাজাতে ও সুস্বাদু রান্না করতে। জওহরলাল নেহেরু দিল্লীতে তাঁর আঁকা ছবির একটি প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন। প্রসাধনী ও পারফিউম বানাতে জানতেন, কিছু বাজারজাতও করেছিলেন। জওহরলাল তাঁকে রাষ্ট্রদূত করে বিদেশে পাঠাতে চেয়েছিলেন, বিশ^ভারতীর কথা ভেবে রাজি হননি। ১৯৪৮ সালে চীন সরকারের অর্ডার অব পাতসিঙ (‘উজ্জ্বল তারকা’) পুরস্কারে ভূষিত। দীর্ঘকাল শান্তিনিকেতনের কর্মসচিব, পরে ১৯৫১ সালে বিশ^ভারতী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। ১৯৫৩ সালে উপাচার্যের পদে ইস্তফা দিয়ে বসবাসের জন্য উত্তর প্রদেশের দেরাদুনে চলে যান । সেখানেই তাঁর স্মৃতিকথা On the edges of time রচনা করেন, যা ১৯৫৮ সালে তাঁর ৭০ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়। এর তিন বছর পর দেরাদুনেই তাঁর মৃত্যু হয়। অনুবাদক কবির চান্দ জীবনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অবলোকনে আগ্রহী। উৎসুক তিনি ভিন্ন রকম পাঠেও। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক। একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর। অর্থনীতিতেও মাস্টার্স করেছেন জাপান থেকে। কিছুদিন পড়িয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে। অসম্ভব রকম বৈচিত্র্য-সন্ধানী কবির চান্দ ভালবাসেন পড়াতে; তার চেয়েও বেশি, পড়তে। এক সন্তানের জনক। জন্মেছেন নরসিংদীর রায়পুরায়, ১৯৭১ সালে। অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : খুনি ও বুদ্ধিজীবী (ছোটগল্প), দাদিমার হরফ শেখা (অনুবাদ)।