খুন হলেন কালিদাস
কালিদাস সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও নাট্যকার। দুর্জেয়, রহস্যময়, কুয়াশাবৃত তাঁর জীবন। এই মহাকবির বেঁচে থাকার সময়-পরিধির মতো তাঁর জন্মস্থান নিয়েও রয়েছে মতভিন্নতা। কেউ কেউ বলেন কালিদাস জন্মেছেন খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে। কারো দাবি এই কবির জন্ম খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে। মিথিলাবাসীরা তাঁকে মৈথিলি বলেন, মহারাষ্ট্রবাসীরা বলেন কবি মাহারাষ্ট্রের লোক। অনেক বাঙালি পণ্ডিত কালিদাস যে বাঙালি ছিলেন, এমন কথাও জোর দিয়ে বলেন। আবার কেউ কেউ বলেন, কাশ্মীররাজ মাতৃগুপ্তই কবিকুলচূড়ামণি কালিদাস। কবির ব্যক্তিগত জীবন ও জন্মকাল সম্বন্ধে শতভাগ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। যা আছে তা ইতিহাস নয়, কিংবদন্তি, লোকগল্প। তবে এই কবি বিক্রমাদিত্যের 'নবরত্ন' সভার এক রত্ন ছিলেন, তা প্রমাণিত। কালিদাসের জন্মকাল, জন্মস্থান ইত্যাদি নিয়ে মতভেদ থাকলেও তাঁর কবিপ্রতিভা বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তিনি 'মহাকবি' হিসেবে স্বীকৃত। যুগ যুগ ধরে তাঁর রচনা পাঠককূল সাদরে গ্রহণ করেছেন, করছেন। ফারুক মাহমুদের লেখা 'খুন হলেন কালিদাস' গ্রন্থটি কালিদাস নিয়ে প্রচলিত নানা গল্পের সমষ্টিরূপ। কাব্যধর্মী গদ্যভাষায় রচিত কালিদাসকে নিয়ে এটিই নবতম উপন্যাস। কালিদাস অক্ষরজ্ঞানহীন, ছিন্নমূল, দুরন্ত বালক থেকে খ্যাতি, সম্মানের শিখরে পৌঁছেছিলেন। পাণ্ডিত্যেও তাঁর জুড়ি ছিল না। এই মহাকবি কেন খুন হলেন এর করুণ বয়ান রয়েছে এই উপন্যাসে। “কালিদাস টের পাচ্ছে, সে মৃত্যুর কাছে দাঁড়ানো। এর মধ্যে শাস্ত্রীদের একজন কালিদাসের ডান হাতের কব্জিতে তরবারির কোপ বসাল । রাজার নির্দেশ, এক কোপে কালিদাসকে হত্যা নয়, প্রথমে কাটতে হবে কবিতা লেখার হাত। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে। রক্তের ফোটা বাঁ হাতের আঙুলে নিয়ে, লক্ষহীরার আঁচলে কালিদাস লিখলেন, “বিনাশো নাস্তি কৰ্ম্মণাম’। কর্মের কোনো বিনাশ নাই ।”