জিন্নার প্রেম বাংলা ও ভারত ভাগ
কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ । একজন তুখোড় রাজনীতিক। নামকরা আইনজীবীও। ইস্পাত কঠিন দৃঢ় প্রত্যয়ে বলীয়ান প্রচণ্ড ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ। পাকিস্তান সৃষ্টির মহানায়ক। তাঁর অনমনীয় দৃঢ়তা ও জীবনব্যাপী সার্থক রূপায়ন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা। ব্যক্তিত্ব, যুক্তিপ্রয়োগের কৌশল, আকর্ষণ শক্তি, গোল টেবিল আলোচনা ও আইনসভার বক্তৃতায় অসাধারণ প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, ভব্যতা, আদব কায়দা এসব বিষয়ে জিন্নাহ্ চিরকালই ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু দৃঢ় চরিত্রের কঠিন মানুষের মনেও একদিন অবাক করার মতো প্রেম আসে। তিনি হয়ে যান একজন প্রেমিক। প্রেমেরও সফল রূপায়ন হয় তার জীবনে। মনে অনেক প্রেম থাকলেও প্রকাশে ছিলেন খুবই কুণ্ঠিত। কঠিন বাস্তবতাকে নিয়ে ছিল তার পথ চলা । তাই তার পারিবারিক জীবনে ছন্দপতন ঘটতেও দেখা যায়। উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, ঢাকায় এসে তার এ ঘোষণা বাঙালির মনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকা থেকে ফিরে গিয়ে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ভাষার ব্যাপারে আর কোনো উক্তি করেননি তিনি। সাংবাদিক মরহুম মোদাব্বেরের লেখা থেকে জানা যায় মৃত্যুর পূর্বে কায়েদে আজম ভাষার ব্যাপারে তার উক্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। ভাষা প্রশ্নে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় রক্তপাত ঘটে খাজা নাজিমুদ্দিনের অবিমৃশ্যকারিতার পরিণামে । " “মুসলিম লীগের আন্দোলন যেরূপ ‘গদাই-লস্করী' চালে চলছিল, তাতে আমি আমার অন্তরে কোনো বিপুল সম্ভাবনার আশার আলোক দেখতে পাইনি । হঠাৎ লীগ নেতা কায়েদে আজম যেদিন ‘পাকিস্তানের’ কথা তুলে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন-'আমরা ব্রিটিশ ও হিন্দু দুই ফ্রন্টে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করব’–সেদিন আমি উল্লাসে চিৎকার করে বলেছিলাম- হাঁ, এতদিনে একজন সিপাহ সালার-সেনাপতি এলেন । আমার তেজের তলোয়ার তখন ঝলমল করে উঠল।” -কাজী নজরুল ইসলাম"